ইংলিশ মুভি রিভিউ

ইংলিশ মুভি রিভিউ | সেরা ১০টি ইংলিশ মুভি যার বাজেট জানলে অবাক হবেন

সিনেমা আজকের দিনে জনপ্রিয় বিনোদন হয়ে উঠেছে। একটি ভালো মানের সিনেমা তৈরি করার জন্য বেশ অর্থ ব্যয় করতে হয়। আবার কোন কোন সিনেমার নির্মাতাগণ তাদের সিনেমাটি দর্শকের চোখে ভালো ভাবে পৌঁছে দিতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকেন। ভালো সিনেমাই বিনিয়োগকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও তারা সফলতা অর্জন করে । তাই এ বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত সিনেমা তৈরি হয়ে যাচ্ছে। এবং নির্মাতা কোন একটি সিনেমার পিছনে শতশত ডলার খরচ করে যাচ্ছে ও অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেও কয়েক গুণ লাভ করছে নির্মাতা গণ। বর্তমানে বাংলাদেশের সিনেমার অবস্থা খারাপ হলেও বহির্বিশ্বে বিশেষ করে হলিউড কিংবা বলিউডের সিনেমার বাজার বেশ জমজমাট। একটার পর একটা চলচ্চিত্র তারা তৈরি করে যাচ্ছে এবং তারা সাফল্যের দিকে এগিয়ে যায়। আজকে আমরা বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০ টি ইংলিশ মুভি রিভিউ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করবো।

১. পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: অন স্ট্রেঞ্জার টাইড (২০১১)

পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: অন স্ট্রেঞ্জার টাইড

এই সিনেমাটি নির্মিত হওয়ার পর বিশ্বকে চমক লাগিয়ে দেয়। 2011 সালে নির্মিত হয় এই সিনেমাটি এখন পর্যন্ত বলিউডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সিনেমা নামে পরিচিত। এই সিনেমায় খরচ হয়েছিল অনুমানিক 378 .5 মিলিয়ন ডলার। এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন বিশ্ববিখ্যাত অভিনেতা জনি ডেপের আইকনিক চরিত্র ‘ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো’ এই সিরিজেরই চরিত্র। এই সিনেমার দৃশ্য নেওয়া হয় সমুদ্রের দস্যু নাবিক, ময়লা-নোংরা পোশাক, উদ্ভট সাজগোজ, ভীতু, হাস্যকর এই চরিত্রটি অনেকেরই প্রিয়। বিশ্ববিখ্যাত ওয়াল্ট ডিজনি প্রোডাকশন এটি তে ছিল সিনেমার প্রযোজক হিসেবে। উল্লেখ্য এই সিনেমাটির বক্স অফিসে আয় করেছিল প্রায় ১.০৪ বিলিয়ন ডলার।

২. পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: এট ওয়ার্ল্ডস এন্ড (২০০৭)

পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: এট ওয়ার্ল্ডস এন্ড

ব্যয়বহুল সিনেমার তালিকার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিনেমাটি হলো পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান সিরিজের। এটি পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান সিরিজের ৩য় চলচ্চিত্র। এর বাজেট ছিল প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। এটি ব্যবসায়িক দিক থেকে অনেক বেশি লাভও করে। ইতিহাসের মধ্যে এটি একটি অন্যতম ব্যবসাসফল সিনেমা। বক্স অফিসে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় হয়েছিল এই সিনেমায়। এই সিরিজের মুভিগুলোতে অভিনয়ের চ্যালেঞ্জও ছিল অনেক বেশি। প্রকৃতির সব দুর্গম স্থানে করতে হয়েছে এই সিনেমার শুটিং। সরঞ্জামাদি, কলাকুশলীদের নিয়ে দুর্গম স্থানে শুটিং করা বেশ কষ্টসাধ্য হয় আর্টিস্ট দেড় ক্ষেত্রে। চ্যালেঞ্জিং কাজ তারা করেছে এবং সে অনুসারে সফলতাও পেয়েছে এই সিনেমায়।

৩. অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন (২০১৫)

অ্যাভেঞ্জার্স: এজ অব আলট্রন

‘মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স’-এর ১১ তম চলচ্চিত্র হিসেবে ধরা হয় এই সিনেমাটি। এই সিনেমাটি ধরণের দিক থেকে একটি সায়েন্স ফিকশন, সুপারহিরো ও অ্যাকশন ধাঁচের হিসেবে তৈরী করা হয়েছিল। মার্ভেলের সিনেমাটিক ইউনিভার্সে আরো বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সুপারহিরো মুভি রয়েছে যেগুলো মানুষের কাছে অনেক জনপ্রিয়। যেমন আয়রন ম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, থর, হাল্ক ইত্যাদি। এদেরকে নিয়ে আলাদা আলাদা মুভি তৈরী করা আছে।

মার্ভেল টিম এদের সবাইকে একত্র করেছে একটি মুভিতে। এবং প্রথম মুভি হিসোবে এই মুভিটির নাম দেয়া হয়েছিল ‘দ্য অ্যাভেঞ্জার্স’। বিভিন্ন মুভিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সুপারহিরোদের একত্র করে বলা যায় তারা একটা বৈপ্লবিক কাজ করে ফেলেছে এই সুপারহিট সিনেমায়। এই সিনেমায় সকল সুপারহিরোদের এই মিলনমেলা মানুষ পছন্দও করেছে খুব। প্রথম মুভির সফলতায় উৎসাহিত হয়ে অনেক টাকা বাজেট নিয়ে তারা নির্মাণ করে আরেকটি নতুন সিনেমা। এবং মানুষের কাছে এটি অনেক জনপ্রিয় হইয়া উঠে। সেটিই হচ্ছে এখানের এজ অব আলট্রন। এটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২৮০ মিলিয়ন ডলার।

৪. জন কার্টার (২০১২) | ইংলিশ মুভি রিভিউ

জন কার্টার

এই মুভি টি তৈরি করতে খরচ পড়েছিল ২৬৩ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু খরচ এই সিনেমাটি নির্মাণ করতে বেশি হলেও সিনেমাটা খুব একটা ব্যবসা করতে পারেনি। ব্যক্তিগতভাবে আমার নিজের কাছেও খুব একটা ভালো লাগেনি। আমার মনে হয়েছে এই মুভিটা ভালো করার এবং সফল হবার অনেক সুযোগ ছিল। কিন্তু কোনো এক বা একাধিক কারণে তা করতে পারেনি এই সিনেমা নির্মাতা রা । এটি ডিজনির অন্যতম একটি ফ্লপ মুভি। কোনোরকমে ২৮৪ মিলিয়ন ডলার আয় করে এই সিনেমা নির্মাতা গণ। পোস্ট প্রোডাকশনের খরচ বাদ দিলে এটি লোকসান ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাই না।

ডিজনি নির্মাতাগণ এই সিনেমার লোকসানের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং তদন্তে করে বেরিয়ে আসে সিনেমা তৈরিতে অনেক দুর্নীতি হয়েছে।

লেখালেখিতে পারদর্শী হলে আপনিও যেকোনো বিষয়ে সোনার বাংলা ব্লগে লেখালেখি করতে পারেন। কিভাবে লিখবেন তা এই লিংক থেকে জেনে নিতে পারেন।

৫. ট্যাঙ্গলড্‌ (২০১০)

ট্যাঙ্গলড্‌ ইংলিশ মুভি রিভিউ

এই সিনেমাটি হলো একটি এনিমেটেড চলচ্চিত্র। এতেই ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার।এই এনিমেটেড চলচ্চিত্রের মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল দৃশ তুলে ধরা হয়েছিল । একটি এনিমেটেড চলচ্চিত্র তৈরিতে কীভাবে এত বেশি পরিমান অর্থ খরচ করা হয় এটি আসলেই ভাবার বিষয়। আমরা অনেকে জানি সাধারণ চলচ্চিত্রে অভিনেতাদেরকে খুব বড় অংকের মূল্য পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু এনিমেটেড চলচ্চিত্রের বেলায় সেটা করা লাগে না।

৬. স্পাইডার ম্যান থ্রি (২০০৭) | ইংলিশ মুভি রিভিউ

স্পাইডার ম্যান থ্রি

মার্ভেল কমিকসের আরেকটি সুপারহিরো চরিত্র নিয়া এই সিনেমা টি নির্মাণ করা হয়। স্পাইডার ম্যান সিরিজে পূর্বে আরো দুইটি সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছিল। দেয়াল বেয়ে উঠার ক্ষমতা, জাল নিক্ষেপ করার ক্ষমতা, ক্ষিপ্র গতি, অসম্ভব শক্তিশালী, বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এই চরিত্রটি বিশ্বের অনেকের কাছেই প্রিয় হয়ে উঠেছিল এই সিনেমা এর দৃশ দেখে।এটি নির্মাণ কোরেন আরেক বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তি ‘স্ট্যান লি’। এটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছিল ২৫৮ মিলিয়ন ডলার। সময়ের প্রেক্ষাপটে পরিমাণটা বেশিই। তবে খরচ পুষিয়ে আয়ও করে নিয়েছিল ৮৯০ মিলিয়ন ডলার।

৭. হ্যারি পটার এন্ড দ্য হাফ ব্লাড প্রিন্স (২০০৯)

হ্যারি পটার এন্ড দ্য হাফ ব্লাড প্রিন্স

জে কে রাউলিং-এর উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি হ্যারি পটার সিরিজের ষষ্ঠ মুভি হিসেবে এই মুভি টি পরিচিত। এই হ্যারি পটার এন্ড দ্য হাফ ব্লাড প্রিন্স মুভি টি প্রযোজনা করেছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সবচেয়ে বেশি বাজেটের মুভি বলা হইয়া থাকে । খরচ প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার। খরচ অনুসারে আয়ও করে নিয়েছিল এই মুভি। বলা যাই এটি একটি ব্যাবসা সফল মুভি। মাত্র পাঁচ দিনে ৪০০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করে নিয়েছিল। এই মুভির মোট আয় ৯৩৪ মিলিয়ন ডলার। ওয়ার্নার ব্রাদার্সের অন্যতম ব্যবসা সফল মুভি।

৮. দ্য হবিট: ব্যাটল অব দ্য ফাইভ আর্মিস (২০১৪)

দ্য হবিট: ব্যাটল অব দ্য ফাইভ আর্মিস

এই সিনেমায় একটি বিশ্ববিখ্যাত এপিক ট্রিলজি ‘লর্ড অব দ্য রিংস’ এর আগের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে । জে. আর. আর. টলকিনের উপন্যাস ‘দ্য হবিট’ অবলম্বনে এই তিনটি মুভি তৈরি করা হইয়াছিল। এই মুভি সিরিজের মধ্যে তৃতীয় মুভিটি হচ্ছে এটি। ৩য় মুভিটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার। তুলে নিয়েছে প্রায় চার গুণ পরিমান অর্থ। এই সিনেমাটি বক্স অফিসে আয় করেছে ৯৫৬ মিলিয়ন ডলার।দ্য হবিট: ব্যাটল অব দ্য ফাইভ আর্মিস এর পরিচালক পিটার জ্যাকসন।

৯. ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস (২০১৬)

ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস

ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস ডিসি কমিকস ইউনিভার্সের একটি জনপ্রিয় মুভি। মার্ভেল কমিকস যেমন অ্যাভেঞ্জার্স সিরিজে আয়রন ম্যান, হাল্ক, থর, ক্যাপ্টেন আমেরিকা সহ কয়েকটি সুপারহিরো চরিত্রের ক্রস ওভার (একত্রীকরণ) করেছে তেমনই ডিসি কমিকসও ব্যাটম্যান ও সুপারম্যানের মাঝে ক্রসওভার করেছে এই সিনেমায়। ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার এর বেশি। তার বিপরীতে আয় করেছে ৮৭৩ মিলিয়ন ডলার। এটি একটি ব্যাবসা সফল মুভি।

১০. ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়্যার (২০১৬)

ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়্যার

অ্যাভেঞ্জার্সের মতো এটিও মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের একটি মুভি। এই ক্যাপ্টেন আমেরিকা ইউনিভার্সের ১৩ তম মুভি। বলা যায় ২০১১ সালে নির্মিত এই ক্যাপ্টেন আমেরিকা: ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার্স এবং ২০১৪ সালে নির্মিত ক্যাপ্টেন আমেরিকা: দ্য উইন্টার সোলজার মুভি দুটির সিক্যুয়েল হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় এটি। এই সিনেমায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার এর বেশি। তার বিপরীতে আয় করেছে ১.৫ বিলিয়ন ডলার। এটি একটি ব্যাবসা সফল মুভি বলা যায়।

এই ছিল আমাদের আজকের ইংলিশ মুভি রিভিউ যেগুলো আপনি যদি দেখে না থাকেন তাহলে দেখে নিতে পারেন। এগুলোর কাহিনি যেমন আপনার মনকে কেরে নিবে তেমনি এগুলো তৈরি করতে কেন এত খরচ হয়েছে তাও জানতে পারবেন। ছবিগুলো কেমন লেগেছে অবস্যই কমেন্টস করে জানাবেন। এরকম আরো সুন্দর সুন্দর পোস্টের আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখতে পারেন।

 

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *