নারী নির্যাতন

নিথর মানবী

আব্দুল  হান্নান

মানুষ বড়ই আজব জাতী,জ্ঞান গরিমায় পরিপক্ক এই জাতীর শ্রেষ্ঠত্ব সকল যুগের সকল সভ্যতার মাঝেই বিরাজমান ছিল আছে পৃথিবী যতদিন আছে ততদিন থাকবে। মানুষের কিছু আচরণ, কিছু কাজ, কিছু মতাদর্শ আর একজন মানুষের বা মানবগোষ্ঠীর জীবনকে এক দিকে যেমন তাদের অন্তরের আকাংখা মনোস্কামনা কিছু হলেও পূরন করতে পারে, তেমনি ভাবে জীবনকে দুর্বিপাকের ভিতরেও ফেলতে পারে।আমাদের বর্তমান সমাজের চিত্রের দিকে গভীর ভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলে দেখা যাবে নারীবাদ বিষয়ক মিছিল, মিটিং, অনশন বক্তৃতা কম হচ্ছে না কিন্ত নারীদের উপর দৈব বিপদ গুলো বার বার হাতছানি দিয়ে কেন যেন ধেয়ে আসছে। প্রতিদিনের পত্রিকা পড়লে আর টিভির সংবাদ দেখলে এমন কোন দিন পাওয়া যাবেনা যে দিন কোন নারী বা শিশু ধর্ষিত হয়নি, মনে হচ্ছে নারীরা কোথাও যেন নিরাপদ না। শিশু হতেই ওর উপর দিয়ে বইতে শুরু হয় নানা ধরনের বিরক্তিকর ব্যবহার। জাহেলিয়াত যুগে নারীদের ভোগের সামগ্রী মনে করা হলেও এ রকম শিশু ধর্ষণ ছিলনা। শিশুদের বিশেষ অঙ্গ নিয়ে লোলুপতা করা হতোনা। ওদের বিবেক কি একটা বারও দংশন করেনা যে আমিও কোন এক নারীর সন্তান কোন এক নারী আমার বোন আমার মেয়ে, জাতির জন্য এ এক বেদনাদায়ক নৈরাশ্য। বর্তমান সমাজে নারীদের বেড়ে ওঠা যেন ছাগল পালের মধ্যে কাঁঠাল গাছ বেড়ে ওঠা। কোন মতে হাটার পর্ব শিখার পর স্কুলে যেতে পারার মত হয়ে যখন বাড়ির বাহির হয় ও যেন তখন হতেই শকুন দের নজরে আসা শুরু হয়। চেহারাটা একটু ভালো নাদুস নুদুস হলেই শকুনরা আদর করার জন্য এগিয়ে আসে। ও যখন হাজার স্বপ্নের জাল বোনে তখন কিছু শকুন থাকে ওর স্বপ্নকে ভেঙ্গে তছনছ করে দেয়। এ দেশের সকল স্তরের বেশির ভাগ অবিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে পরনির্ভরশীল। কেউ বা প্রাইভেট মাষ্টারের কাছে আবার কেই কোচিং সেন্টারে তাদের সন্তানদের বাড়তি লেখাপড়া করান। ওখানে যে মেয়েটা পড়তে যায় সে কতটুকু নিরাপদ? এই দেশে এমন হাজার হাজার প্রমান আছে যে প্রাইভেট শিক্ষক, কোচিং শিক্ষক তার ছাত্রীকে বিবাহ করেছে। তাহলে বিবাহের পূর্বে ঐ শিক্ষক তার প্রতি অবশ্যই যৌন টার্গেট করেছে! এমন অনেক শিক্ষক আছে যারা এই সমস্ত মেয়েদের সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। এমন অনেক শিক্ষক পাওয়া যাবে যারা ভাল রেজাল্টের প্রলোভন দেখিয়ে অথবা রেজাল্ট খারাপের হুমকি দিয়ে অনৈতিক ফাঁদে ফেলে।

সম্প্রতি ধর্মীয় বেশভুষার আড়ালে থেকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় লেবাসধারী কতিপয় ব্যক্তি যাদের চুলদাড়ি সাদা হয়ে গেছে চামড়া ঢিলা হয়ে গেছে তারা নারী শিশুদেরকে ধর্ষনের মত কার্যকলাপ করে স্ব স্ব ধর্মের বদনাম রটাচ্ছে অথচ বিশ্বের কোন ধর্মেই ধর্ষনের অনুমতি নেই। মনে রাখতে হবে অপরাধের সাথে ধর্মকে জড়ানো যাবেনা, ধর্মকে দোষী করা যাবেনা। দোষী ব্যক্তি সবসময় নিজেকে বাঁচানো এবং অপরাধকে ত্বরান্বিত করার জন্য ধর্মকে ঢাল স্বরূপ ব্যবহার করে মাত্র।

বিংশ শতাব্দীর পরেরই এসব ঘটনা। দূর অতিতের দিকে দৃষ্টি ফিরালে দেখা যায় শিক্ষকরা যেন পিতার আসনেই ছিলেন। বছর শেষে ছাত্র ছাত্রীদের বিদায় অনুষ্ঠান গুলিতে ছাত্র ছাত্রী শিক্ষকদের চোখের পানিতে বন্যা বয়ে যেত। কি আদর কি স্নেহ কি মায়া বিরাজ করতো সেখানে। আর এখন স্কুল কলেজ হতে বিদায় নিয়ে যেতে পারলে মনে হয় বাঁচে। বর্তমানের মেয়েদের অনেক চড়াই উতরাই পার করেই শিক্ষা জীবন শেষ করতে হয়। কোন নিশ্চয়তা নেই কিছু শিক্ষক নামের কুলাঙ্গার এবং কতিপয় দুশ্চরিত্রদের কুদৃষ্টি রাস্তার নিরাপত্তা সামাজিক অপবাদ নানা ধরনের প্রতিকুল অবস্থার ভিতর দিয়ে তাঁকে অগ্রসর হতে হয়। শিক্ষা জীবন শেষে কর্ম জীবনে যখন যেতে চাই,তখন তার জীবনে আসে আর একটি অধ্যায়। লোলুপদের কুদৃষ্টির রোশানলে পড়ে যায়। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও ইন্টারভিউ টেবিল তার জন্য বড়ই আজবের। বোরখা পরেতো এ চাকুরী করা যাবেনা বসের সামনে সর্বদা হাসি মুখে থাকতে হবে, এই করতে হবে ঐ করতে হবে আপনি পারবেনতো হ্যান ত্যান হাজারো প্রশ্ন। সকল প্রতিকূল অবস্থা পেরিয়ে কোন মতে চাকুরীটা যদি হয়েও যায় এখন কর্মস্থলের খারাপ নফস ধারীদের আর পুরাতন সুবিধাবাদীদের নানা ধরনের ফাঁদে আটকা পড়ে যায়। সবক্ষেত্রে এ রকম হয় বা হবে তা আমি বলছিনা তবে অধিকাংশ বাস্তবতা এটাই।

পোস্টটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।