Bangladesh mrp passport

কোন ঝামেলা ছাড়াই পাসপোর্ট করবেন কিভাবে

দেশের বাইরে যেতে চাইলে সর্বপ্রথম যে জিনিসটির প্রয়োজন হয় তা হল পাসপোর্ট। কিন্তু বাংলাদেশে একটি পাসপোর্ট করতে গেলে বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয়। ঝামেলা ছাড়াই কিভাবে Bangladesh mrp passport করা যায় তা আমি স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করব।

১। ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া

প্রথম ধাপেই আপনাকে ব্যাংকে পাসপোর্ট ফী জমা দিতে হবে। এ জন্য নিকটস্থ কোন ব্যাংকে যেখানে পাসপোর্টের টাকা জমা নেয় সেখানে গিয়ে পাসপোর্ট ফি জমা দিতে হবে। পাসপোর্ট ফি সাধারনের জন্য ৩০০০.০০ + ১৫% ভ্যাট = ৩৪৫০.০০ টাকা এবং জরুরী হলে ফি ৬০০০.০০ + ১৫% ভ্যাট = ৬৯০০.০০ টাকা। টাকা যেসব ব্যাংক জমা নেয় সেগুলো হল ওয়ান ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক। টাকা জমা হলে স্লিপটি সংরক্ষন করুন যা পরবর্তীতে ফর্মের সাথে জমা দিতে হবে।

২। ফরম পূরণ

অনলাইনে ফরম পূরণের জন্য প্রথমে http://www.passport.gov.bd এই ওয়েব সাইটে যেতে হবে। এরপর হোমপেজে নিচের চিত্রের ন্যায় আসবে।

bangladesh passport office

তারপর হোমপেজের শর্তগুলো পরে নিচের I have read the above information and the relevant guidance notes ঘরে টিক চিহ্ন দিয়ে CONTINUE TO ONLINE ENROLMENT বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর পাসপোর্টের ফরম আসবে।

Online Application for Bangladesh Machine Readable Passport

ফরমটি আপনার ভোটার আইডিতে যেভাবে নাম ঠিকানা দেওয়া আছে ঠিক সেভাবে নাম ঠিকানা দিয়ে পূরণ করতে হবে। লাল স্টার চিহ্ন সম্মিলিত ঘর গুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে। ফরমটি যথাযথ পূরণ হয়ে গেলে দ্বিতীয় স্টেজের জন্য SAVE & NEXT বাটনে ক্লিক করতে হবে। তখন নিচের ফরমটি আসবে।

Online Application for Bangladesh Machine Readable Passport Stage 2

এই স্টেজে আপনার জরুরী কন্টাক্ট নাম্বার, পূর্বের পাসপোর্ট থাকলে তার নম্বর এবং ব্যাংকের স্লিপের নম্বর টাকার পরিমান ইত্যাদি বিষয় দিয়ে ফরমটি পূরন করতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক মত পূরণ করার পর পুনরায় SAVE & NEXT বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর চেক দেওয়ার জন্য একটি পেজ আসবে। এখান থেকে দেখে নিতে হবে সব কিছু ঠিকঠাক আছে কিনা। যদি কোন কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয় তাহলে PREVIOUS পেজে গিয়ে  ঠিক করে নিতে পারবেন। সব শেষে SUBMIT বাটনে ক্লিক করে অ্যাপ্লিকেশনটি সাবমিট করতে হবে। সাবমিট করার ১৫দিন পর্যন্ত সময় থাকে। এর মধ্যে আপনাকে বাকী কাজ গুলো সম্পাদন করতে হবে।

৩। সত্যায়িত করা

পাসপোর্ট ফরমটি পূরণ শেষ হলে সাবমিটের পর তা ডাউনলোড করার অপশন আসবে সেখান থেকে ফরম দু’টি ডাউনলোড করে নিয়ে প্রিন্ট করতে হবে। তারপর আঠা দিয়ে পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগিয়ে নিতে হবে এবং তারপর ফরমটি সত্যায়িত করে নিতে হবে। যেসব ব্যাক্তি দ্বারা সত্যায়িত করা যাবে তারা হল সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ডেপুটি মেয়র ও কাউন্সিলরগণ, গেজেটেড কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও পৌর কাউন্সিলরগণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, নোটারী পাবলিক ও আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জাতীয় বেতন স্কেলের ৭ম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের গ্রেডের কর্মকর্তাগণ। সত্যায়িত করার সময় একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তাহল সত্যায়ন কারির সিল এবং সাইন যেন ছবি এবং ফরম উভয়ের মধ্যে থাকে। সত্যায়ন কারী ব্যাক্তির নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর ফরমে উল্লেখ করতে হবে।

৪। ফরম জমা দেওয়া

উপরের উল্লেখিত কাজ গুলো শেষ হলে আপনাকে ফরম জমা দেওয়া, ছবি উঠানো এবং বায়মেট্রিক ভেরিফিকেশনের জন্য আপনার নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবেএবং এই কাজটি অবশ্যই ফরম অনলাইনে পূরণ করার ১৫দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে লাইনে দ্বারাতে হবে তখন সেখানেই আপনাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে কোথায় ফরম জমা দিতে হবে, কোথায় ছবি উঠাতে হবে ইত্যাদি।

৫। পুলিশ ভ্যারিফিকেশন

ফরম জমা দেওয়া শেষ হলে আপনাকে একটি স্লিপ দেওয়া হবে উক্ত স্লিপে উল্লেখ্য থাকবে কত তারিখ থেকে কত তারিখ মধ্যে আপনার পাসপোর্ট রেডি হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে আপনার সাথে পুলিশ যোগাযোগ করবে ভ্যারিফিকেশনের জন্য। তারা আপনার সাথে কথা বলে আপনার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য নিবে এতে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। তবে কিছু অসাধু পুলিশ অফিসার আছে যারা আপনাকে ভয় দেখাতে পারে যে আপনার পাসপোর্ট হবেনা কিংবা দেরি হবে এরকম কিছু বললে আপনি পাসপোর্ট অফিসের ওয়েব সাইডের নম্বর নিয়ে তাদের কাছে বিস্তারিত খুলে বলবেন তাহলে আর কোন ঝামেলা করতে পারবে না। আপনি যদি নিজের জেলা থেকে পাসপোর্ট করেন তা হলে ভ্যারিফিকেশন হবে শুধু এক জায়গায় আর যদি অন্য জেলার কোন পাসপোর্ট অফিসে করেন তা হলে আপনার বর্ত্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা উভয় যায়গায় ভ্যারিফিকেশন হবে।

 

তো এভাবেই আপনি কোনো ঝামেলা ছাড়াই Bangladesh MRP Passport করে নিতে পারেন। পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করুন এবং কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্টস করুন। ধন্যবাদ।

 

পোস্টটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE